Friday, November 6, 2015

আজকের টপিক গ্রাফিক্স কার্ড। আজকে আমরা সহজ ভাবে জানবো এর খুঁটিনাটি।

গ্রাফিক্স কার্ড আসলে কি??

সহজ বাংলায় যে কার্ড আপনার পিসির গ্রাফিক্স প্রোসেসিং করে এবং ভিডিও আউটপুট তৈরি করে তাকে গ্রাফিক্স কার্ড বলে। সহজ একটা উদাহরন দেই, আপনি যে মুভি দেখছেন সেটাও কিন্তু গ্রাফিক্স কার্ডের একটা কাজ, হয়তো বলতে পারেন আমার তো গ্রাফিক্স কার্ড নাই কিন্তু মুভি তো দেখতে পারি, কিছু গেম ও খেলতে পারি। সেক্ষেত্রেও আপনার পিসির ইন্টারনাল গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট কাজ করছে।
গ্রাফিক্স কার্ড আর জিপিইউ নিয়ে অনেকেরই কনফিউশন আছে প্রথমে সেটা দূর করা যাক। 😀
আপনি একটা গ্রাফিক্স কার্ড কিনলেন, সেটাকে কি জিপিইউ বলবেন নাকি  গ্রাফিক্স কার্ড বা ভিডিও কার্ড বলবেন। ফ্যান ট্যান সহ সুন্দর যে সার্কিট বোর্ডটা আপনি কিনে এনে পিসিআই এক্সপ্রেস স্লটে লাগাচ্ছেন সেটাকে বলবেন গ্রাফিক্স কার্ড বা ভিডিও কার্ড.
আপনার সাধের ভিডিও কার্ডের ফ্যান আর হিটসিঙ্ক খুললে ভিউটা এই রকম হবে, দেখবেন চারকোনা প্রসেসরের মত একটা পার্টস লাগানো আছে সেইটাকে বলে গ্রাফিক্স প্রোসেসর অথবা জিপিইউ (GPU) (Graphics Processing Unit)।  জিপিইউ কিন্তু আপনার প্রসেসর এবং মাদারবোর্ডের সাথে বিল্ট-ইন হিসাবে থাকতে পারে, এক্ষত্রে প্রসেসর এর একটা অংশ গ্রাফিক্স অথবা ভিডিও প্রসেসিং করে, আপনার পিসির র‍্যামের কিছু অংশ কাজকরে ভিডিও র‍্যাম(Vram) হিসাবে।  তাই আপনি ভিডিও কার্ড ছাড়াও মুভি দেখা, গ্রাফিক্সের হাল্কা পাতলা কাজ অথবা ছোট খাট গেমস খেলতে পারেন।  সেক্ষত্রে সেটিকে বলা হবে ইন্টারনাল জিপিইউ আর এখানে যেটি দেখছেন সেটি হচ্ছে এক্সটার্নাল জিপিইউ। এক্সটার্নাল জিপিইউ অবশ্যই ইন্টারনাল জিপিইউ থেকে বেশি শক্তিশালী।


গ্রাফিক্স কার্ড স্লট

মাদারবোর্ডের যে স্লটে গ্রাফিক্স কার্ড কানেক্টেড থাকে সেটিকে বলা হয় পিসিআই এক্সপ্রেস, স্লট টি দেখতে নিচের মত। বিভিন্য ভার্সনের পিসিআই এক্সপ্রেস স্লট আছে যেমন PCIe 1/1.1/2/3 ইত্যাদি।

বর্তমানের সব কার্ডই  PCI Express 2.0 x16 or PCI Express 3.0 x16 স্লট ইউজ করে থাকে। দুটি স্লটের মাঝে বেসিক কোন পার্থক্য নেই, ফ্রেম রেটে অল্প কিছু ডিফারেন্স পাওয়া যায়। PCI Express 3.0  x16 স্লটে ব্যান্ডউইথ অ্যালোকেশন বেশী থাকে যা অনেকটা ডাটা ট্রান্সফার রেটের মত।
PCI Express 2.0 x16 এর চেয়ে। কিন্তু মজার ব্যপার PCI Express 2.0 x16 তে যে পরিমান ব্যান্ডউইথ অ্যালোকেশন আছে সেটি বর্তমানের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড ও ইউজ করতে পারেনা, PCI Express 3.0 x16 কে একধরনের বিজনেস পলিসিও বলতে পারেন। PCI Express 2.0 অথবা PCI Express 3.0 এর মাঝেও অনেক কাহিনি রয়েছে। স্লটের গায়ে অনেক সময় লেখা থাকে  PCI Express 3.0 X8 অথবা X4, এগুলার মানে হল, X16 স্লট দিয়ে যে পরিমান ডাটা ট্রান্সফার হইয়, স্লট টি যদি  X8 এ রান করে তবে সেই স্লট আর কম পরিমান ডাটা ট্রান্সফার হবে আর X4 এ আরো কম পরিমান, সহজ বাংলা কথায় X16 স্লট ছাড়া অন্য স্লটে কার্ড লাগালে গ্রাফিক্স কার্ডের পার্ফরমেন্স কমে যাবে। অনেক সময় দেখা যায় মাদার বোর্ডে ক্রস ফায়ার বা এসএলআই সুবিধা দেয়া আছে, দুইটা PCI Express 3.0 স্লট ও আছে। দেখা গেল একটা স্লট X16 আরেকটা স্লট X8 এ রান করে। তাহলে কাহিনি দাঁড়াচ্ছে, আপনি ক্রস ফায়ার বা এসএলআই ঠিকই করতে পারছেন কিন্তু সেকেন্ড কার্ড থেকে ভালো পার্ফরমেন্স পাচ্ছেন না। প্রোপার ভাবে ক্রস ফায়ার বা এসএলআই করতে দুইটা PCI Express 2.0/3.0 X16 স্লট প্রয়োজন। কিছুদিন পর AMD 300 সিরিজ রিলিজ হবে যেটা PCI Express 4.0  সাপোর্টেড হবে,     😀 😀

জিপিইউ আর্কিটেকচার

প্রায় সকলেই জানি বাজারে মুলত দুই কোম্পানীর গ্রাফিক্স কার্ড পাওয়া যায়,
 এএমডি রেডন
 এনভিডিয়া
 ইন্টেল (বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স)
এদের কাছ থেকে চিপ কিনে নিয়ে এসে বিভিন্ন সাব ভেন্ডর কোম্পানী যেমন স্যাফায়ার, এমএসআই, গিগাবাইট, হিস ইত্যাদি কোম্পানী কার্ডের কিছুটা মডিফিকেশন করে বিক্রি করে যেমন কিছুটা ওভারক্লক করে দিল সাথে কুলিং সিস্টেমটাও একটু ইম্প্রুভ করে দিলো। যাই হোক এসব বিষয়ে পরে আসছি।
Nvidea GTX 770 অথবা AMD 7970 এগুলা বলতে কিন্তু আমরা জিপিইউ বুঝি না, এগুলা হচ্ছে এক একটা ভিডিও কার্ড। প্রতিটা  কার্ডের একটা  কোড নেম থাকে।  জিটিএক্স ৭৭০ ভিডিও কার্ডের জিপিইউ কে বলা হয় "GK104"  একই ভাবে এএমডি ৭৯৭০ কার্ডের জিপিইউ হচ্ছে  "Tahiti XT" এরা প্রায় প্রতি বছর পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন জিপিইউ বাজারজাত করে, নতুন জিপিইউ গুলা সাধারনত একদম নতুন আর্কিটেকচার অথবা পুরানো আর্কিটেকচার গুলোর কিছুটা মডিফাইড ভার্সন হয়, যেমন AMD 7970Ghz Edition কার্ডের রিব্র্যান্ড হচ্ছে AMD R9 280X।
কার্ডের পার্ফরমেন্স অনেকাংশেই জিপিইউ আর্কিটেকচার এর উপর নির্ভর করে। বর্তমানের জিপিইউ গুলা ২-১ বছর আগের জিপিইউ এর চেয়ে অনেক শক্তিশালী, ভবিষ্যতেও সেম জিনিশ দেখা যাবে কারন প্রতি বছর যে হারে গেম ডেভলাপ হচ্ছে।

গ্রাফিক্স কার্ডের স্প্যাসিফিকেশন

বাজারে যে গ্রাফিক্স কার্ড গুলা পাওয়া যায় সেগুলার  কিছু স্প্যাসিফিকেশন থাকে নিচে দেওয়া হল, নিচে এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
  • GPU clock frequency
  • Boost Clock
  • Number of shaders/stream processors/cores
  • MAX resolution
  • Memory clock frequency
  • Effective memory clock
  • Memory type
  • Memory bandwidth
  • Memory size
  • Video Output
  • TDP (Thermal Design Power)
  • Maximum board power

গ্রাফিক্স কোর

আবার ফিরে আসি জিপিইউ বা গ্রাফিক্স প্রসেসরে। আমরা প্রায় সবাই সিপিইউ (CPU) বা প্রসেসর ইউজ করে থাকি।  কেউ ডুয়েল কোর, কেউ কোয়াড কোর, কেউ হেক্সা কোর আবার কেউ কেউ আট কোরের প্রসেসর চালাই। যত বেশি কোর সংখ্যা, সেই সিপিইউ মাল্টি টাস্কিং তত ভালো। সাধারন প্রোসেসর এ সাধারনত ৮টা রিয়েল কোর এবং  হাইপার থ্রেডিং এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৬টা ভার্চুয়াল কোর বা থ্রেড থাকতে পারে যা মাল্টিটাস্কিং এ খুব সহায়তা করে।
এবার আসি গ্রাফিক্স কার্ডের বেলায়। গ্রাফিক্স কার্ড যেহেতু কিছু স্প্যাসসিফিক অ্যাপ্লিকেশান এর জন্য ডিজাইন করা হয় তাই এর কোর সংখ্যা সিপিইউ এর তুলনায় অনেক অনেক  বেশি এবং সাইজেও অনেক ছোট যাতে সবগুলা কোর ছোট সিলিকন চিপের মাঝে সঠিক ভাবে ফিট হয়।
এই বেশি সংখ্যক কোরের জন্য জিপিইউ তে বেশি সংখ্যক ট্রাঞ্জিস্টর থাকে। সিপিইউ এর তুলনায় এর সিলিকন ডাই এর মাঝে অনেক বেশি ট্রাঞ্জিস্টর থাকে। তাই এর তাপাত্রাও প্রসেসর এর তুলনায় অনেক বেশি থাকে।
এই গরম হওয়ার পিছনে আরো একটি কারন  আছে। আপনি যখন গেম খেলেন অথবা গ্রাফিক্স রেন্ডারিং করেন তখন এটিকে কন্টিনিউয়াস প্রচুর পরিমান ডাটা প্রোসেস করতে হয়, আপনি যখন গেম খেলেন তখন  জিপিইউ, সিপিইউ এর তুলনায় প্রায় ১০০ গুন বেশি ডাটা প্রসেস করে তাই এই তাপের উৎপত্তি  হয়!



Cores, Shaders, Stream processors and Cuda Cores

আমরা যারা একটু আধটু গ্রাফিক্স কার্ড নিয়ে ঘাটাঘাটি করি তাদের এই টার্ম  গুলা জানার কথা, এগুলো আর কিছুই না উপরে বর্ননা করা "গ্রাফিক্স কোর"।  এএমডি রেডন যে কার্ড গুলা বানায় সেইগুলার কোর কে বলা হয়  "Stream processors "
এনভিডিয়ার পরিবর্তিত আর্কিটেকচারে এই "core" কে বলা হচ্ছে cuda cores, আপনারা একটু লক্ষ করলে দেখতে পারবেন যদি কাছাকাছি পারফরমেন্স এর দুটি Nvidea এবং AMD কার্ড তুলনা করেন তবে দেখবেন, Nvidea এর জিপিইউ গুলার কুডা কোরস এর সংখ্যা বেশ কম আবার AMD radedon এর "Streamprocessors" এর সংখ্যা তুলনামুলক অনেক বেশি। যেমন AMD Radeon HD 7970 3GB কার্ডটির 2048 টি stream processors আছে, যেখানে NVIDIA Geforce GTX 670 2GB কার্ডটির মাত্র 1344 টি Cuda Cores আছে. যদিও দুটি কার্ড প্রায় কাছাকাছি পারফর্মেন্স এর। সহজ ভাষায় বলি nvidea এর কোর গুলা একটু বড় সাইজের এবং বেশি শক্তিশালী এবং AMD এর কোর গুলার সাইজ ছোট এবং ছোট ছোট পাওয়ার এর তাই এরা  সংখ্যায় তুলনামুলক অনেক বেশি।


কোর ক্লক (Core Clock)

এই টার্মটির সাথেও আমরা অনেকেই পরিচিত। কোর ক্লক বা কোর স্পীড বা ক্লক স্পীড হচ্ছে যে  ফ্রিকোয়েন্সিতে জিপিইউ কোর গুলা অপারেট করে। এই ফ্রিকোয়েন্সিকে মেগাহার্য বা গিগাহার্যে প্রকাশ করা হয়, ব্যাপারটা অনেকটা সিপিইউ ক্লক স্পীড এর মত কিন্তু একটু ডিফারেন্স আছে, আপনি যখন হেভী গেমিং কিংবা গ্রাফিক্স রেন্ডারিং করবেন তখন জিপিইউ এর সবগুলা কোর ইউজ হবে। কিন্তু প্রসেসর এর ক্ষেত্রে সেটা হয় না, আপনার যদি ৮ কোর অথবা ১৬ থ্রেডের কোন প্রসেসর থাকে, বর্তমানের কিছু গেমস এবং গ্রাফিক্স এডিটিং সফটওয়্যার রিলেটেড বাদে বেশির ভাগ অ্যাপ্লিকেশানের ক্ষেত্রে সব গুলা কোর অথবা থ্রেড ইউজ হবেনা।
শুধু মাত্র ক্লক স্পীড দিয়ে দুটি কার্ডের পার্ফরমেন্স এর কম্প্যায়ার করাটা বোকামি হবে। আমরা সবাই জানি, ডুয়েল কোরের 3Ghz আর কোর আই ৫ এর 3Ghz সমান পারফর্মেন্স দেয় না, গ্রাফিক্স কার্ডের ক্ষেত্রেও তাই। সেম দুটি কার্ড বা কাছাকাছি পার্ফরমেন্স এর দুটি কার্ডের মাঝে কোর ক্লকের কম্পেয়ার চলে, যেমন AMD 7970 কার্ডটি 1000Mhz এ যে পারফর্মেন্স দিবে 1150Mhz এ তার থেকে কিছুটা ভালো পারফর্মেন্স দিবে। আবার যেমন Nvidea GTX  760 কে ওভারক্লক করলে সেটা Nvidea GTX 770 স্টক পার্ফরমেন্স কে টাচ করে, ওভার ক্লকিং এর বিষয়ে বিস্তারিত পরে আলোচনা করছি।


বুস্ট ক্লক (Boost clock)

এই ফিচারটি Nvidea এবং AMD এর নতুন ফিচার, যা অনেকটা ইন্টেলের টার্বো বুস্ট টেকনোলজির মত। যখন প্রয়োজন হয় তখন গ্রাফিক্স কার্ডের কোর ক্লক স্পীড অটোমেটিক ভাবে কিছুটা বেড়ে যায় ফলে কার্ডের পার্ফরমেন্সও অনেকটা বেড়ে যায় যা গেমারদের জন্য খুবই দরকার। তবে এই ফিচারের ফলে কার্ডের পাওয়ার কনসাম্পশন কিছুটা বেড়ে যায়  সাথে টেম্পারেচার ও খানিকটা।


ভিডিও মেমরী (Video Memory)

Video Memory বা Video Ram বা VRam, আমাদের কাছে আরেকটি পরিচিত টার্ম। যেমন AMD 7750 1GB, AMD 7970 3GB, Nvidea GTX Titan 6GB, এখানে 1GB, 3 GB আর 6GB হচ্ছে কার্ডের ভিডিও মেমরী।
এটি অনেকটা আমাদের সিস্টেম র‍্যামের মত, এই VRam কার্ডের টেম্পোরারী ডাটা স্টোরেজ হিসাবে কাজ করে। আরো সহজ বাংলায় গ্রাফিক্স কার্ডের র‍্যাম কে VRam বা ভিডিও র‍্যাম বা ভিডিও মেমরি বলে।
একটি কার্ডের অনেক সময় দুটি ভার্সন থাকে যেমন GTX 770 কার্ডের এর ২জিবি এবং ৪জিবি দুটি ভার্সনই আছে। অনেকে মনে করে থাকেন এই VRam এর উপর কার্ডের পারফর্মেন্স নির্ভর করে থাকে। যত বেশি VRam, কার্ড তত ভালো, আসলে ব্যপারটি ঠিক না। একটি কার্ডের পারফর্মেন্স নির্ভর করে ওভার অল The number of cores, memory size/type/speed, আর মেইনলি জিপিইউ আর্কিটেকচার এর উপর। প্রশ্ন আসতে পারে যে তাহলে এই মেমরির কাজ কি।  উত্তর হচ্ছে আপনি যখন বা মাল্টি মনিটরে অথবা উচ্চ রেজুলেশনে (1920X1080) বা (2560X1600) এর উপরে হাই টেক্সচার ডিটেইল, যেমন ফুল আল্ট্রা সেটিংস গেম খেলবেন তখন অতিরিক্ত VRam কাজে আসে, তখন ১জিবি এর বেশি VRam দরকার হয়। সাধারনত (1920X1080) বা ফুল এইচডি রেজুলেশনে বর্তমানের গেম গুলা আল্ট্রা সেটিংসে খেলতে 4জিবি এর বেশি VRam এর দরকার নেই, রিসেন্ট কিছু গেম যেমন জিটিএ ফাইভ, 1080p তে ৬জিবির উপর  VRam কনসিউম করে, ফুল আল্ট্রা সেটিংস এ। তবে মনে হয় আগামী ২-১ বছরের মাঝে এই থিওরি চেঞ্জ হবে, দেখা যাবে তখনকার স্ট্যান্ড্যার্ড vRAM হবে  ৮-১২ জিবি।


মেমরী ক্লক স্পীড (Memory Clock Speed)

সোজা কথায় গ্রাফিক্স কার্ডের র‍্যামের স্পীড কে মেমরী ক্লক স্পীড বলে। এটি সাধারনত Mhz এ প্রকাশ করা হয়। এর অর্থ গ্রাফিক্স কার্ড কত দ্রুত র‍্য্যমের মধ্যে যে ডাটা টেম্পোরারি স্টোর হয়ে আছে, সেটাতে এক্সেস করতে পারে,  মানে কি হারে ডেটা আদান প্রদান করবে।  মেমরি ক্লক স্পীড বেশি হলে গ্রাফিক্স কার্ড দ্রুত ডাটা এক্সেস করতে পারে, কম মেমরী ক্লক স্পীড এর তুলনায়।  সে ক্ষেত্রে ওয়েটিং টাইম ও কমে যায়।  তাই মেমরি ক্লক স্পীড বাড়লে কার্ডের পারফর্মেন্স ও বৃদ্ধি পায়।
ক্লক স্পীড আর ডাটা রেট এর মাঝে একটা কনফিউশন আছে যেটা অনেকেই বুঝতে পারেনা। GDDR5 টাইপের মেমরি এর ক্ষেত্রে,  এই ক্লক স্পীড সাধারনত 1000-1400 Mhz এর মাঝে থাকে। অনেক সময় কার্ডের স্প্যাসিফিকেশনে লেখা থাকে "datarate" বা "effective clockrate"। GDDR5 টাইপের মেমরিকে "quad pumped" বলা হয়, কারন এর একটি ক্লক সাইকেলে, ৪টি ডাটা প্যাকেট ট্রান্সফার হয়। সুতরাং 1000Mhz মেমরি ক্লক এর Data rate বা effective clockrate হবে 4000Mhz। মানে মুল ক্লক স্পীড এর ৪ গুন। এর অর্থ প্রতি সেকেন্ডে জিপিইউটি ৪০০০ মিলিয়ন ডাটা ট্রানজেকশন করতে সক্ষম। অনেক সময় কার্ড ম্যানুফেকচার মেমরি ক্লক স্পীড কে বিভিন্য ভাবে উল্লেখ করে, তাহলে কিভাবে বুঝবেন কোনটা আসল ক্লক স্পীড আর কোনটা ডাটা রেট, GDDR5 কার্ডের ক্ষেত্রে,
  • মেমরী  স্পীড যদি 1000-1400Mhz এর মাঝে লেখা থাকে তাহলে সেটা রিয়েল ক্লক স্পীড এবং ডাটা রেট হচ্ছে এর চার গুন।
  • মেমরী  স্পীড যদি 4000Mhz এর উপর লেখা থাকে তবে সেটা ডাটা রেট এ দেওয়া, রিয়েল ক্লক স্পীড হবে তখন এর চার ভাগ।


Memory Type

এটি হচ্ছে গ্রাফিক্স কার্ডটি কি টাইপের মেমোরী বা র‍্যাম দিয়ে গঠিত। অনেকটা সিস্টেম র‍্যামের মত, র‍্যাম যেমন DDR, DDR2, DDR3 হয়, কার্ডের বেলাও একই ঘটনা। DDR মানে হল Double Data Rate। বর্তমানে বাজারে GDDr3 এবং GDDR5 গ্রাফিক্স কার্ডই বেশি পাওয়া যায়।
GDDR4 কার্ড খুব রেয়ার, ATI X1950 কার্ডটি GDDR4 er। বর্তমানে পাওয়া যায়না,  GDDR5 গ্রাফিক্স কার্ড অবশ্যই GDDR3 কার্ড এর চেয়ে ভালো। এই মেমরি টাইপের সাথে, মেমরী ক্লক স্পীড লিমিট এবং ব্যান্ডউডথ লিমিট এর সম্পর্ক আছে। পার্ফরমেন্স এর ক্ষেত্রে GDDR5>GDDR4>GDDR3>DDR2>DDR।
কিছুদিন পর এএমডি HBM (High Bandwidth Memory)  নামে এক টাইপের মেমরী নিয়ে আসছে, এটি নতুন ধরনের এক মেমরী চিপ যেটি GDDR5 এর চেয়ে ৯ গুন দ্রুত বলে দাবী করা হচ্ছে,  যা কার্ডের পার্ফরম্যান্সে এক বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে, যা মেমরী পাওয়ার কনসাম্পশন ও অনেক কমিয়ে দিবে।


Memory Bus Width

আমরা হরহামেসাই বলে থাকি যে গ্রাফিক্স কার্ডটি 128bit, 256bit,  384bit বা 512bit এর। এখানে 128bit, 256bit বা  384bit হচ্ছে কার্ডের Bus width.  Bus Width হচ্ছে প্রতি মেমরি ক্লক সাইকেলে মেমরীতে স্টোর থাকা যে পরিমান ডাটা তে জিপিইউ এক্সেস করতে পারে। নন টেকনিক্যাল ভাবে যদি বুঝাই Memory যদি পাইপের ভিতর দিয়ে সঞ্চালিত পানি কল্পনা করেন তবে Memory bus width হবে সেই পাইপের সাইজ। বেশি bus width মানে বড় পাইপ আর কম bus width মানে ছোট পাইপ। পানি বেশী আছে কিন্তু পাইপ ছোট, পানি ভালো ভাবে আসবে?? আসবে না। তাই মেমরীর পরিমান বেশী হলে ফুল পার্ফরমেন্স পেতে হায়ার bus width জরুরী। অনেক সময় লো ইন্ড কার্ড Nvide  GT630, "4GB" মেমরী দিয়ে দেয়, এটি ইউজ লেস কারন, এটি 128-Bit এর, এই bus width দিয়ে 4GB ইউটিলাইজ হবে না। মানে সেই ছোট পাইপ থিওরী। হায়ার রেজুলেশনে গেম খেলতে বেশি  Bus Width অবশ্যই জরুরি, 1080p রেজুলেশনে ভালো ভাবে গেম খেলতে মিনিমাম 256bit Bus width এর কার্ড দরকার। চার্টটি দেখলে হাল্কা আইডিয়া পাবেন। তবে একটা কথা আছে চার্ট টি তে হাল্কা এডিট করতে হয়েছে, কারন যে কার্ড একসময় হাই এন্ড ছিলো সেটি এই জামানায় মিড রেঞ্জ হয়ে গেছে, আবার দেখা যাবে এখন যে কার্ড গুলা হাই এন্ড, সেগুলা ২ বছর পর  লোয়ার মিড রেঞ্জ বা মিড রেঞ্জ পজিশনে আছে। যা দিন কাল দেখা যাচ্ছে, কিছুদিন পর মনে হয় প্রতি বছরই গেমার দের কার্ড চেঞ্জ করা লাগবে।  😛
Bus width (GPU)Typical videocard using it
128 bitTypically low end cards have a 128 bit memory bus. examples are HD 7730, HD 6670, HD 7750, HD 7770
192 bitLow-midrange cards typically have this, for example the GTX 460 GTX 660 .
The GPU on the GTX 460 can also support a 256 bit bus but this requires additional RAM chips bringing the memory up to 1GB for the 256 bit version.
256 bitMidrange cards typically have this, examples are the HD 7870 and GTX 760. GTX 670
Some high end cards also have this bus width but typically their memory runs at a higher clockspeed requiring more expensive GDDR5 chips.
320 bitLower Midrange, for example the GTX 570 uses a 320 bit memory bus.
384 bit          512 bitHigh End cards like the GTX 770, GTX 680 and the HD 7970Ghz. AMD R9 280X, HD 7950 .                  Extreme High end cards like AMD R9 290X, AMD R9 290.


Memory Bandwidth

Memory bandwidth হচ্ছে জিপিইউ প্রতি সেকেণ্ডে যে পরিমান মেমরিতে এক্সেস করতে পারে। এটি Bus width এবং  Memory Datarate এর একটি কম্বিনেশন, এটি সাধারনত GB/sec এ প্রকাশ করা হয়। যত বেশি Memory bandwidth তত বেশি গ্রাফিক্স কার্ডের পারফর্মেন্স। মজার একটা হিসাব দেখাই আপনাদের, মেমরি ক্লক 1200Mhz হলে ডেটা রেট হবে 4X1200=4800Mhz।  যার মানে কার্ডটি প্রতি সেকেন্ডে 4800 million ডাটা ট্রানজেকশন করতে সক্ষম। ধরুন কার্ডটি 512 biT Bus Width এর, মানে প্রতিটি ট্রানজেকশন 512bit এর। তাহলে কার্ডটির টোটাল মেমোরি ব্যান্ডউয়িথ হবে, 4800X512= 24,57,600 million bits per second. আমরা জানি 8bit= 1byte, ৮ দিয়ে ভাগ করে পাই 3,07,200 million bytes per second, বা 307.2 GB/sec


Texture Fill Rate

জিপিইউ প্রতি সেকেন্ডে যে সংখ্যক টেক্সচারড পিক্সেল রেন্ডার করতে পারে, এটি সাধারনত Gigatexel per sec দিয়ে প্রকাশ করা হয়।


Maximum Resolution

অনেক সিম্পল একটা টার্ম, আপনার কার্ড ম্যাক্সিমাম কত রেজুলেশন সাপোর্ট করে সেটা বুঝায়,  একটি কার্ডে সাধারনত একাধিক আউটপুট পোর্ট থাকে এবং প্রত্যেক পোর্টের ম্যাক্সিমাম রেজুলেশন সমান হয় না।
সেটা ভিজিএ পোর্টের জন্য এক রকম, ডিভিআই এর জন্য এক রকম আবার এইচডিএমআই অথবা ডিসপ্লে পোর্টের  জন্য এক রকম।


TDP (Thermal Design Power)

টার্মটা সম্পর্কে একটু ভুল ধারনা থাকতে পারে অনেকের, যে গ্রাফিক্স কার্ড ফুল লোডে যে পরিমান পাওয়ার কনজিউম করে, সেটা তার TDP, আসলে সেটা হবে না। এটা হচ্ছে কোন কার্ডের যে কুলিং সিস্টেম আছে সেই কুলিং সিস্টেম একটা নির্দিষ্ট ওয়াট পর্যন্ত থারমাললি জেনারেটেড হিট বের করে দিতে সক্ষম।  যেমন আসুস জিটিএক্স ৯৮০ কার্ডটির ম্যাক্সিমাম TDP হছে ১৬৫ ওয়াট, তার মানে আসুসের ঐ জিটিএক্স ৯৮০ এর কুলিং সিস্টেম,  ১৬৫ ওয়াট পর্যন্ত থারমাললি জেনারেটেড হিট বের করে দিতে সক্ষম।



Crossfire/SLI

এই টার্মটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত, একই ক্যাটাগরির দুইটি এএমডি কার্ড একত্রে ইউজ করলে সেটাকে বলে ক্রস ফায়ার, আর এনভিডিয়া কার্ডের বেলায় সেটা এসএলআই। এখানে একটি মজার ব্যাপার আছে, ধরুন আপনি জিটিএক্স ৯৬০ এর দুটি কার্ড এসএলআই করলেন একটি কার্ড ২জিবি ভার্সন অপরটি ৪জিবি ভার্সন, হিসাবে তো টোটাল vRAM ৬ জিবি পাবার কথা,
কিন্তু টোটাল vRAM হবে ২জিবি, দুটো ৪জিবি কার্ড ইউজ করলে হবে ৪জিবি, একই কাহিনী কোর ক্লকের ক্ষেত্রেও। আবার ধরা যাক একটি কার্ড ইউজ করে কোন গেমে ফ্রেম পাচ্ছেন প্রতি সেকেন্ডে ৫০ করে, দুটি কার্ড লাগালে তো ১০০ ফ্রেম পাওয়ার কথা কিন্তু পাওয়া যাবে ৮০-৮৫ ফ্রেম, মানে ক্রস ফায়ার বা এসএলআই করে দুটো কার্ডের পুরো পারফর্মেন্স পাওয়া সম্ভব না। কিছু লস হবেই, এটা নিয়ে গবেষনা চলছে, কিছুদিন পর হয়তো এই সমস্যা গুলি সলভ হয়ে যাবে।


Overclocking

আমরা হরহামেশাই শুনে থাকি সিপিইউ কিংবা জিপিইউ ওভারক্লকিং এর কথা এটি হচ্ছে একটি নির্দিস্ট পাওয়ার লিমিটের মাঝে ম্যানুয়ালি জিপিইউ এর কোর ক্লক অথবা মেমরী ক্লক স্পীড বৃদ্ধি করা, স্বভাবতই কার্ডের পার্ফরমেন্স ১০-১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কিছু সমস্যা তো থাকেই, না বুঝে ওভার ক্লক করলে জিপিইউ বার্ন করার সম্ভাবনা থাকে+ "ম্যানুফেকচারার রেটেড ম্যাক্সিমাম ভোল্টেজ" এর চেয়ে বেশী ভোল্টেজ বাড়িয়ে ওভার ক্লক করলে কার্ডের ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যায়, যদিও বাংলাদেশের সার্ভিস সেন্টারের লোকজন ধরতে পারেনা। ওভারক্লক করলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রচুর হিট জেনারেট করে। তবে কোন কার্ড নির্দিস্ট লিমিট পর্যন্ত ওভার ক্লক করা যায়, এর বেশি ওভারক্লক করলে সিস্টেম স্ট্যাবল থাকেনা+কার্ডটির ক্ষতি হতে পারে।
তবে  কুলিং সিস্টেম ইম্প্রুভ করলে  কোন নির্দিস্ট কার্ডের ওভার ক্লকিং লিমিট বেড়ে যায়। যেমন GTX 980 কার্ডটির ক্ষেত্রেই,
দুই কোম্পানির সেম কার্ডের ম্যাক্সিমাম ওভারক্লক ভ্যালু ভিন্ন,  এর কারন হচ্ছে কুলিং সিস্টেম। আবার,
Evga GTX 980 hydro copper ওয়াটার কুল্ড এডিশন কোর ক্লক ওভারক্লক করে 1550Mhz পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায় ওয়াটার কুলিং সিস্টেমের কারনে।


Power Consumption and Power Connector

সোজা টার্ম, মানে জিপিইউ কি পরিমান পাওয়ার কনসিউম করছে সেটা, সাধারনত ২ ধরনের পাওয়ার কনসাম্পশন পাওয়া যায়,  IDLE Power consumption & Max Power consumption. কোন কার্ড সিস্টেম লোড না থাকলে যে পাওয়ার কনসিউম করে সেটা তার  IDLE Power consumption, আর ম্যাক্সিমাম ফুল লোডে যে পাওয়ার কনসিউম করে সেটা তার Max Power consumption, সাধারনত Max Power consumption এর উপর ভিত্তি করে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট সিলেক্ট করা উচিত।
এবার আসি কার্ডের পাওয়ার কানেক্টরের বিষয়ে,  কার্ডের পাওয়ার কানেক্টর মুলত দুই ধরনের হয়

6 pin Connector= 75w
 8 pin Connector= 150w
On board pcie lane= 75w
কোন কোন কার্ডে দুইটি 6 pin connector থাকে,  কোন কার্ডে একটি আবার কোন কার্ডে দুইটি 8 pin connector থাকে, আবার কোন কার্ডে একটি 8 pin connector ও একটি 6 pin connector থাকে। আবার কোন কার্ডে  connector ই থাকে না, সেই কার্ড গুলা অবশ্য লো ইন্ড কার্ড এবং সেগুলা On board pcie lane থেকে পাওয়ার কালেক্ট করে।  পাওয়ার কানেক্টর দিয়ে কার্ডে কত পাওয়ার ঢুকছে সেটা বুঝা যায়,
যেমন MSI GeForce GTX 980 Gaming কার্ড টিতে দুইটি 8 pin কানেক্টর দেয়া আছে, তার মানে 2X150= 300W+ On board 75W= 375W পাওয়ার সরবরাহের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু কার্ডটির MAX power consumption = ~ 198 Watts, ওভারক্লক করলে আরো ২০-৩০ ওয়াট বেশি লাগবে তাই দুইটি 8 pin Connector ইউজ করা হয়েছে সেফটির জন্য। পাওয়ার কানেক্টর দেখে জিপিইউ এর MAX power consumption কিছুটা অনুমান করা যায়।
তো এই হচ্ছে গ্রাফিক্স কার্ডের মোটামুটি বেসিক খুটিনাটি, কিছু ইনফরমেশন ও ছবি গুলো ইন্টারনেট থেকে কালেক্ট করা হয়েছে।
কৃতজ্ঞতাঃ  আসিফ ভাই (Vanguard)
আজকের টপিক পিসির পাওয়ার সাপ্লাই।  আজকে আমরা সহজ ভাবে জানবো এর খুঁটিনাটি।

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU) আসলে কি এবং এর কাজ কি??

সহজ ভাবে বলতে গেলে পাওয়ার সাপ্লাই পিসির একটি কম্পোনেন্ট যা 110/220V, AC ভোল্টেজের লাইন থেকে একটি নির্দিস্ট পরিমান পাওয়ার কালেক্ট করে এবং তা DC ভোল্টেজে কনভার্ট করে প্রয়োজন অনুসারে পিসির বিভিন্য কম্পোনেন্ট কে সরবরাহ করে। আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষ এটিকে কম গুরুত্বপুর্ন কম্পোনেন্ট হিসাবে গন্য করে কিন্তু আসলে তা না,  এটি অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ন একটি পিসি কম্পোনেন্ট, এক কথায় পিসির হার্ট ও বলা চলে। কম্পিউটার কিনার সময় বেশীরভাগ মানুষ সস্তার ৫০০-৬০০টাকা দামের নরমাল পাওয়ার সাপ্লাই লাগায়, কাজ চলে গেলেও আসলে এটি খুবই রিস্কি একটা কাজ যার ফলে আপনার গোটা পিসি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, যার কারন গুলো সম্পর্কে পরবর্তিতে আলোচনা করছি। আমার মতে একটু দাম দিয়ে একটি ডিসেন্ট  পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট অবশ্যই লাগানো উচিত।

PSU Rails

আগেই বলেছি পিএসইউ 110/220V, AC ভোল্টেজের লাইন থেকে একটি নির্দিস্ট পরিমান পাওয়ার কালেক্ট করে এবং তা DC ভোল্টেজে কনভার্ট করে প্রয়োজন অনুসারে পিসির বিভিন্য কম্পোনেন্ট কে সরবরাহ করে। কিন্তু পিসির সব কম্পোনেন্ট এক ভোল্টেজে অপারেট করেনা।  পিসির কম্পোনেন্ট গুলো সাধারনত +3.3V, +5V, +12V, -12V, +5VSB (standby) এ অপারেট করে। PSU AC লাইনের 110V/220V (Alternating Voltage)  কে,   ঐ ভোল্টেজ গুলাতে কনভার্ট করে পাওয়ার সাপ্লাই করে। নির্দিস্ট লাইনের বা তারের মাধ্যমে পিসি কম্পোনেন্ট গুলাতে ওই ভোল্টেজ হিসাবে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন হয়। সাপ্লাইকৃত ভোল্টেজ গুলোকে রেইল বলা হয়। সহজ কথায় +3.3V Rail, +5V Rail, +12V Rail, -12V Rail, +5VSB (standby) Rail।
ভোল্টেজ হিসাবে কিভাবে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন হয় সহজ ভাবে একটু জানি। জানা আছে,

পাওয়ার=ভোল্টেজ X অ্যাম্পিয়ার

ধরা যাক পাওয়ার সাপ্লাইটি +12V রেইলে 24AMP সাপ্লাই দেয়। তাহলে +12V রেইলে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিশন হবে +12X24= 288Watt. তেমনি বাকি রেইল গুলাতেও এই হিসাবে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন হয়। কোন রেইলের পাওয়ার ওয়াট হিসাবে বের করতে হলে ওই রেইলের ভোল্টেজের সাথে রেইলের অ্যাম্পিয়ার রেটিং গুন করতে হয়, সহজ একটি হিসাব।

নেগেটিভ রেইল

অনেক সময় পাওয়ার সাপ্লাইতে নেগেটিভ রেইল ও থাকে যেমন -12V, -5V, রেইল,  -5V,রেইলটি বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলিতে দেখা না গেলেও -12V রেইল টা দেখা যায়। পুরানো দিনের floppy controller গুলা -5V রেইল ইউজ করতো। অনেক পুরানো দিনের ISA স্লট গুলাতেও ইউজ হত। আর কিছু LAN adapter  -12V রেইল ইউজ করে থাকে, যার জন্য খুব সামান্য পাওয়ার ইউজ হয়।
এখন আমরা দেখবো পিসি এর কম্পোনেন্ট গুলো কোন রেইলে কানেক্টেড থাকে।
+3.3V Rail= Chipset, RAM,
+5V Rail= USB device, Mouse, Keyboard, CDROM, HDD
+12V Rail= Processor, GPU, Motors/Casing Fan, High-output voltage regulators
Rail এর উপর ভিত্তি করে পাওয়ার সাপ্লাই গুলাকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়,

1..Multi Rail PSU

একের অধিক +12V রেইল থাকে, আমাদের পিসির মেইন কম্পোনেন্ট যেমন প্রসেসর, জিপিইউ,  কেসিং এর ফ্যান, সিপিইউ কুলিং ফ্যান বা ওয়াটার কুলিং সিস্টেম +12V রেইল থেকে পাওয়ার কালেক্ট করে। +12V রেইল ম্যাক্সিমাম ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত হতে পারে।
মাল্টি রেইল এর সুবিধা হচ্ছে আলাদা আলাদা কম্পোনেন্ট এর জন্য ভিন্য ভিন্য +12V রেইল বরাদ্দ থাকে যেমন হতে পারে ধরা যাক ৪টি রেইলের একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট।
১. সিপিইউ ও মাদারবোর্ডের এর জন্য +12V1 একটা রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 30A মানে ৩৬০ওয়াট
২. দুটি PCIe slot এর জন্য একটা +12V2 রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 40A মানে ৪৮০ ওয়াট
৩. দুটি 6+2 Pin PCIe কানেক্টরের জন্য একটা +12V3 রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 40A মানে ৪৮০ ওয়াট
৪. আরো দুটি 6+2 Pin PCIe কানেক্টরের জন্য একটা +12V4 রেইল, এই রেইলের জন্য বরাদ্দ 40A মানে ৪৮০ ওয়াট
এই গেল টোটাল ৪টা রেইল, এখানে কথা আছে, এক রেইলের  পাওয়ার অন্য রেইল ইউজ করতে পারবে না। যেমন 12V2 রেইলে ৩৬০ ওয়াট আছে, সিপিইউ ম্যাক্সিমাম ১৫০ ওয়াট ইউজ করলো, বাকি ২১০ ওয়াট অন্য কোন রেইলের(+12VA, +12V3, +12V)  সাথে শেয়ার হবে না, পাওয়ার লস হচ্ছে।  আরেকটা বিষয়,
উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে +12V এর চারটা রেইল প্রতি রেইলে 18A করে হিসাবে আসে (12X18)X4=864Watt, কিন্তু সব +12V রেইল মিলিয়ে ম্যাক্সিমাম 680W পাওয়া যাবে। প্রতি রেইলে ম্যাক্সিমাম 216Watt এর উপর কোন কম্পোনেন্ট ইউজ করা যাবে না এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে, যদি ২৫০ ওয়াটের একটি গ্রাফিক্স কার্ড লাগাতে চান তবে অন্য রেইলের একটি কানেক্টর এনে রান করাতে হবে।  এই মাল্টি রেইল পাওয়ার সাপ্লাই গুলাতে অনেক লিমিটেশন থাকে। অবশ্য সামান্য কিছু সুবিধাও আছে, একটি রেইল যদি কোন ক্রমে নস্ট হয়ে যায় তাহলে অন্য রেইল এর কানেক্টর থেকে কনভার্টার দিয়ে পাওয়ার সাপ্লাই করা যায় যেটা সিঙ্গেল রেইলে করা যায় না। সেক্ষেত্রে পুরো পাওয়ার সাপ্লাইটি বাতিল হয়ে যায়। মাল্টি রেইলে কম্পোনেন্ট কানেকশন দেয়ার সময়  খুব সতর্ক থাকা লাগে এবং দেখে দেখে কানেকশন দেওয়া লাগে যে কোন কোন রেইলে কোন কোন কম্পোনেন্ট গুলা কানেক্ট হচ্ছে, ক্যাবল ম্যানেজম্যান্ট ও অনেক জটিল হয়ে যায়।

2. Single Rail PSU

বর্তমানে এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট খুব জনপ্রিয়, এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে শুধু মাত্র ১টি +12V রেইল থাকে, ওই সিঙ্গেল +12V রেইলে একটি নির্দিস্ট অ্যাম্পিয়ার থাকে।  +12V এ অপারেট করে এমন সকল পিসি কম্পোনেন্ট ওই সিঙ্গেল +12V রেইল থেকে দরকার অনুসারে পাওয়ার কালেক্ট করে।
কোন পাওয়ার লস হয় না। সহজে কানেকশন দেওয়া যায়, কোন ক্যালকুলেশন করে কানেকশন দেয়া লাগে না, কানেকশন দেয়ার সময় সতর্কও থাকা লাগে না মাল্টি রেইল পাওয়ার সাপ্লাই গুলার মত। +12V রেইলে একটি ফিক্সড অ্যাম্পিয়ার থাকে মানে একটি একটি নির্দিস্ট পরিমান পাওয়ার থাকে, যে যার দরকার মত পাওয়ার কালেক্ট করে।  তাই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনলে সিঙ্গেল রেইলের ইউনিট কিনা ভালো।

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের প্রকারভেদঃ

বাজারে সাধারনত তিন ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া যায়,

১. Non-modular PSU:

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট এর সাথে সম্ভাব্য সকল প্রকার ক্যাবল পারমানেন্ট ভাবে এটাচ করা থাকে, যার ফলে যেসব ক্যাবল আপনার দরকার নেই সেগুলো ও কেসিং এর ভিতর থাকছে, অতিরিক্ত তার একত্রে থাকলে কি হয় সেটা তো আপনারা জানেন ভালো করেই। উপরের ছবি দেখলেই ক্লিয়ার হয়ে যাবার কথা।
উদাহরন হিসাবে বলা যায় আপনার গ্রাফিক্স কার্ড একটা ৬ পিন পাওয়ার কানেক্টর ইউজ করে, কিন্তু আপনার পিএসইউ তে আছে দুইটা ৬পিন ক্যাবল। একটি ক্যাবল আপনার না লাগলেও তা কেসিং এর ভিতর থাকছে। সমস্যা গুলো হচ্ছে দক্ষ হাত ছাড়া ক্যাবল ম্যানেজম্যান্ট ভালো ভাবে করা যায়না।  তাছাড়া  Non-modular পাওয়ার সাপ্লাই এর তাপমাত্রাও কিছুটা বেশি থাকে। কেসিং এর অনেকটা যায়গা খেয়ে ফেলে, দরকারের সময় পাওয়ার সাপ্লাই খুলতেও অনেক ঝামেলা হয়।


২. Semi-modular PSU

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের কিছু গুরুতপুর্ন ক্যাবল যেমন 24Pin ATX Motherboard কানেক্টর ক্যাবল, একটি সিঙ্গেল 6/8pin PCIe ক্যাবল, 8 Pin CPU পাওয়ার ক্যাবল, আর একটি বা দুটি সাটা বা মোলেক্স ক্যাবল শুধু পারমানেন্ট ভাবে এটাচ থাকে পাওয়ার সাপ্লাই এর সাথে। বাকি সব ক্যাবল গুলা প্রয়োজন অনুসারে লাগানো যায় অথবা খুলে ফেলা যায়।  এগুলাতে তুলনামুলক একটু ভালো ক্যাবল ম্যানেজম্যান্ট করা যায়।


৩. Full Modular PSU

এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলাতে কোন ক্যাবলই পারমানেন্ট ভাবে এটাচ থাকেনা, এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই গুলা তুলনামুলক দামী হয়। দরকার অনুসারে সব ক্যাবল লাগানো বা খুলে ফেলা যায়।
কেসিং এর ভিতর প্রচুর স্পেস সেভ করে। তাপমাত্রাও কিছুটা কম থাকে। খুব ভালো ক্যাবল ম্যানেজম্যান্ট করা যায়। কোন ঝামেলা হলে খুব সহজেই কেসিং থেকে পাওয়ার সাপ্লাই ডিটাচ করা যায়।

PSU Form Factor

 PSU Form Factor হল পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট এর একটা স্ট্যান্ডার্ড। এই  Form Factor দিয়ে পাওয়ার সাপ্লাই এর শুধু ফিজিক্যাল ডাইমেনশন ই বুঝা যায় না, এর সাহায্যে জানা যায় পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটির কি টাইপের কানেক্টর আছে। চার্টটি দেখলে বুঝতে পারবেন।
এছাড়াও LFX12V, CFX12V, TFX12V, SFX12V এই Form Factor গুলা পাওয়া যায় তবে বর্তমানে ATX12V V 2.x এবং EPS12V এই স্ট্যান্ডার্ডের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় দেখবেন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের স্প্যাসিফিকেশনে ডুয়েল স্ট্যান্ডার্ডের কথা যেমন,
  বলা আছে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটি ATX12V v2.4 এবং EPS 2.92 স্ট্যান্ডার্ড। এর মানে এই দুই স্ট্যান্ডার্ডে যত রকম কানেক্টর ক্যাবল থাকার কথা, এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটির তা আছে, এবং ATX12V এর আগের দুটি স্ট্যান্ডার্ডের সিস্টেমের (ATX12V v2.2, ATX12V v2.01) সাথেও ম্যাচ করবে।

Power Connector

পাওয়ার কানেক্টর চিনার আগে আমাদের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের তার গুলো  সম্পর্কে হালকা পাতলা ধারনা থাকতে হবে, কোন রঙের তার কোন রেইলের সেটা নিচের ছবি থেকে হালকা পাতলা আইডিয়া পাবেন

বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই গুলোতে যে ধরনের পাওয়ার কানেক্টর থাকে সেগুলো হল,


24 pin main power cable

এই ক্যাবল টি মেইন মাদারবোর্ডের সাথে কানেক্টেড থাকে, এটি ২৪পিনের একটি বড় প্লাগ ইউজ করে,
বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই গুলাতে ২৪ পিনের প্লাগ কে ৪টি পিন আলাদা  করে ২০ পিনের প্লাগে কনভার্ট করা যায়,  কিছু পুরানো মডেলের মাদারবোর্ডে ২০পিনের সকেট থাকে, এই ধরনের কানেক্টর কে 20+4 pin connector বলে। দুই ধরনের মাদার বোর্ডেই এই কানেক্টর ইউজ করা যায়।
20 pin socket
 সাধারনত ATX12V 2.0, EPS12V, PCI Express 2.0/3.0 মাদারবোর্ড গুলা ২৪ পিন ইউজ করে, ১৯৯৫-২০০৩ সালের  ATX, ATX12V 1.0, ATX12V 1.3 এই মাদারবোর্ড গুলা ২০ পিনের সকেট ইউজ করে।
ক্যাবলের প্লাগে অনেক গুলা বিভিন্য রঙের তার দেখতে পারবেন, কোনটা কি টাইপের বা ভোল্টের, কোন রেইল দিয়ে ম্যাক্সিমাম কত ওয়াট সাপ্লাই হতে পারে তা উপরের ছবি থেকে হালকা পাতলা আইডিয়া পাবেন।


ATX12V 4pin cable

প্রসেসরে পাওয়ার সাপ্লাই এর জন্য এই ক্যাবল ইউজ করা হয়। সাধারনত পুরাতন মডেলের প্রসেসরের জন্য এই সকেট গুলো ইউজ হয়।

8 pin EPS +12 volt power cable

বর্তমানের প্রসেসর গুলা অনেক পাওয়ার হাংরি, বর্তমানের মাদারবোর্ড গুলাতে এই সকেট গুলা ইউজ হয় আর বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই গুলাতে এই কানেক্টর থাকে,4 pi এর তুলনায়  8pin দিয়ে বেশী পাওয়ার প্রোভাইড করা যায়।


4+4 pin +12 volt power cable

আগেই জেনেছি পুরানো মাদারবোর্ড গুলা ৪ পিনের সকেট ইউজ করে আর নতুন গুলা করে ৮ পিনের। এই ধরনের কানেক্টর দুই ধরনের মাদারবোর্ডেই ইউজ করা যাবে, এই ক্যাবল দিয়ে সর্বোচ্চ ৩৩৬ ওয়াট পাওয়ারের সিপিইউ চালানো যাবে যদিও বর্তমানের কোন সিপিইউ তে এত ওয়াট লাগে না।


6 pin PCI Express power cable (PEG Power Connectors)

এই ক্যাবল গুলি সাধারনত গ্রাফিক্স কার্ডকে পাওয়ার সাপ্লাই করে, একটি ৬ পিন ক্যাবল গ্রাফিক্স কার্ড কে ম্যাক্সিমাম ৭৫ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই করে।


8 pin PCI Express power cable (PEG Power Connectors)

এই ক্যাবল গুলি সাধারনত গ্রাফিক্স কার্ডকে পাওয়ার সাপ্লাই করে, একটি ৮ পিন ক্যাবল গ্রাফিক্স কার্ড কে ম্যাক্সিমাম ১৫০ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই করে

6+2 pin PCI Express power cable


এটিও গ্রাফিক্স কার্ডকে পাওয়ার সাপ্লাই করে। এই ক্যাবলটি ৬ পিন অথবা ৮ পিন দুই ধরনের সকেটেই লাগানো যায়, বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই গুলাতে এই ধরনের ক্যাবল দেখা যাচ্ছে।


SATA Power Cable

SATA হচ্ছে ATA interface (also called IDE) এর আপগ্রেড ভার্সন।
 ডাটা ক্যাবল এবং পাওয়ার ক্যাবল নিয়ে সাটা ইন্টারফেসটি গঠিত।
**সাধারনত হার্ডডিস্ক, ডিভিডি বা সিডি রম এই ক্যাবল দিয়ে কানেক্টেড থাকে।

4 pin peripheral power cable

এইগুলো দিয়ে সাধারনত কেসিং এর অতিরিক্ত ফ্যান, লাইটিং সিস্টেম,  ইত্যাদি অপারেট করে। অনেক সময় হার্ড ডিস্কের অতিরিক্ত পাওয়ার দরকার হলে এটি দিয়ে সরবরাহ করা হয়, অনেক সময় কনভার্টার ক্যাবল দিয়ে গ্রাফিক্স কার্ডের পাওয়ার ও সরবরাহ করা যায়। এই ধরনের প্লাগ কে মোলেক্স (Molex) বলা হয়।

Original PC main power cables

 এইগুলা অনেক পুরানো মডেলের , প্রায় ১৯৮০/৯০ সালের  পিসি গুলাতে থাকতো।

Floppy drive power cable

3.5" ফ্লপি ড্রাইভ গুলা এই ক্যাবলের মাধ্যমে পাওয়ার কালেক্ট করতো। পুরানো AGP কার্ডেও অতিরিক্ত পাওয়ার সাপ্লাই করা যেতো এটি দিয়ে।

6 pin auxiliary power cable

মাদারবোর্ডের +3.3V এবং +5V রেইলে অতিরিক্ত অ্যাম্পিয়ার সরবরাহ করার জন্য এই ক্যাবলটি ইউজ হত একসময়। পুরানো মডেলের ডুয়ালকোর এএমডি মাদারবোর্ডে এগুলো পাওয়া যাবে।

PSU Cooling System

এটি খুব দরকারি একটা টার্ম পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের জন্য, আমরা জেনেছি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট প্রতিনিয়ত ভোল্টেজ ট্রান্সফর্ম ও পাওয়ার সাপ্লাই করে যাচ্ছে যেজন্য এর ভিতরের ক্যাপাসিটর সহ বিভিন্য কম্পোনেন্ট গুলা প্রচুর গরম হচ্ছে। এই হিট বের করে দেওয়া খুব দরকার না হলে একটা নির্দিস্ট টেম্পারেচার লিমিটের উপর টেম্পারেচার উঠলে পাওয়ার সাপ্লাইটির কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই একে ঠান্ডা রাখাটা খুব জরুরী।
সাধারনত  পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে বিভিন্য সাইজের ফ্যান দেখে থাকি, সেটি 60mm থেকে 140mm পর্যন্ত হতে পারে। সাধারনত বেশি ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে বড় ফ্যান ইউজ করা হয়।
ফ্যানটি সাধারনত কেসিং এর নিচের দিকে মুখ করানো থাকে, ফ্যানটির মাধ্যমে বাতাস PSU কেসিং এর ভিতরে প্রবেশ করে, কম্পোনেন্ট গুলো ঠান্ডা করে নিজে গরম হয়ে সাইড এর জালি দিয়ে বের হয়ে যায়। এটি একটি কমন কুলিং সিস্টেম, অনেক পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটে একাধিক ফ্যান থাকতে পারে, ডিজাইনের উপর ও অনেকটা নির্ভর করে।
বর্তমানে কিছু কোম্পানী পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলার কুলিং সিস্টেম অনেক ইম্প্রুভ করেছে। বর্তমানে কিছু পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট Passive cooling System ইউজ করে, এই ধরনের কুলিং সিস্টেমে কোন ফ্যান থাকেনা। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলার ভিতরের কম্পোনেন্ট গুলা খুব উন্নত মানের হয় এবং তুলনামুলক কম হিট জেনারেট করে। যেসব পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের Efficiency ভালো থাকে সেগুলো হিট কম জেনারেট করে। হিট সিঙ্কের মাধ্যমে ভিতরের তাপ বাইরে বের হয়ে আসে, তাছাড়া এই ধরনের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা একটু খোলামেলা এবং অনেক ছিদ্র যুক্ত হয় যাতে ভিতরের তাপ সহজেই বাইরে বের হয়ে আসতে পারে। এই ধরনের কুলিং সিস্টেমের সুবিধা হল কোন ফ্যান নয়েজ থাকেনা।

Zero RPM fan mode

এটি বর্তমানের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলার একটি আধুনিক ফিচার। এই ফিচার যুক্ত পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলোতে একটি intelligent fan profile থাকে যেটি পাওয়ার সাপ্লাই এর উপর লোড অনুসারে ফ্যানের RPM নির্ধারন করে।
মজার ব্যাপার এই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলার কুলিং সিস্টেম এতটাই ভালো যে প্রথম ১০-৩৫ % লোডে ফ্যানের কোন RPM থাকেনা, মানে ফ্যান ঘোরার দরকার হয় না।  ফ্যান গুলাও খুব ভালো ডিজাইনের হয়, খুব কম নয়েজ ক্রিয়েট করে।
যেমন Corsair এর RM, HX, AX সিরিজ এর পাওয়ার সাপ্লাই গুলা।

Power

প্রত্যেকটা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট এর গায়ে তার ম্যাক্সিমাম রেটেড পাওয়ার লেখা থাকে,  এটা পুরোটাই থিইরিটিক্যাল। কোন পাওয়ার সাপ্লাই ই রেটেড পাওয়ার সাপ্লাই দিতে পারেনা, কিছু না কিছু কম থাকে। প্রতিটি পাওয়ার সাপ্লাই এর একটা টেম্পারেচার রেটিং থাকে,
যখন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের ভিতরের সেমি কন্ডাকটর এবং ইনডাক্টর গুলোর টেম্পারেচার  ওই রেটেড  টেম্পারেচার  এর চেয়ে বেশি হয় তখন এগুলোর উপর একটা ইফেক্ট পরে যেটা কে বলা হয় "De-Rating" ইফেক্ট যার ফলে টেম্পারেচার  বাড়ার ফলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটটির পাওয়ার ডেলিভার করার ক্ষমতা কমে যায়, দেখা গেলো কোন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের টেম্পারেচার রেটিং ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস,  এখন ওই তাপমাত্রায় পাওয়ার সাপ্লাই টি +12V রেইলে এ 24A কারেন্ট দেয় যার মানে ১২ ভোল্টে সর্বোচ্চ ২৮৮ ওয়াট  সাপ্লাই দিতে পারে। এখন ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এর কর্মক্ষমতা ৩০% এর উপর কমে যাবে তখন দেখা যাবে ১২ ভোল্টে ১৫ কি ১৬ অ্যাম্পিয়ার কারেন্ট বা ১৯০-১৯৫ ওয়াট সাপ্লাই দিচ্ছে। তাই পাওয়ার সাপ্লাই কিনার আগে টেম্পারেচার রেটিং দেখে কিনা উচিত। কম দামী ৫০০/৬০০টাকা দামের নরমাল পাওয়ার সাপ্লাই গুলার টেম্পারেচার রেটিং অনেক কম থাকে+ কুলিং সিস্টেম অত ভালো থাকে না ফলে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। ভালো পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলাতে  ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস টেম্পারেচার  রেটিং  দেওয়া থাকে।
এইবার একটি মজার ব্যাপারে আসি,  উপরে ৫টি রেইল দেওয়া আছে প্রতি রেইলে কারেন্টের পরিমান ও দেওয়া আছে, +3.3V ও  +5V রেইলে ১৪০ ওয়াট, +12V রেইলে ৫২৮ ওয়াট, -12V রেইলে ৩.৬ ওয়াট, আর +5Vsb রেইলে 12.5 ওয়াট সব মিলিয়ে তো ৬৮৪ ওয়াটের মত আসে, কিন্তু টোটাল পাওয়ারে তো ৫৫০ ওয়াট লেখা?? আবার +3.3V ও  +5V রেইলে ২৪ অ্যাম্পিয়ার হিসাবে আসে  ১৯৯ ওয়াট আসে, দেয়া আছে ১৪০ ওয়াট। এখন পিসির কিছু কম্পোনেন্ট +3.3V ও  +5V রেইল শেয়ার করে দুটি রেইল যখন শেয়ার হয় তখন হিসাব টা সিম্পল থাকেনা,  ধরুন কোন কম্পোনেন্ট +3.3V রেইলে 10A মানে ৩৩ ওয়াট ইউজ করছে তখন সেই কম্পোনেন্টটি  +5V রেইলে সর্বোচ্চ (140-33)/5= 21.4A ইউজ করতে পারবে মানে ১০৭ ওয়াট। আবার কিছু কম্পোনেন্ট +3.3V, +5V এবং +12V রেইল শেয়ার করে, ধরা যাক কম্পোনেন্ট গুলা  +3.3V ও  +5V রেইলে ১৪০ ওয়াট ইউজ করলো তখন  +12V রেইলে 34A পাওয়া যাবে মানে ৫২৮ ওয়াটের পরিবর্তে ৪১০ ওয়াট পাওয়া যাবে। একই কাহিনী মাল্টি রেইল পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলোর ক্ষেত্রে,

ধরা যাক দুইটি +12V রেইল সম্পন্ন একটি পাওয়ার সাপ্লাই এ একটি +12V রেইলে ম্যাক্সিমাম 25A কারেন্ট ফ্লো করতে পারে মানে ৩০০ ওয়াট পাওয়া যায়  এবং আরেকটি  +12V রেইলে ম্যাক্সিমাম 20A কারেন্ট ফ্লো করতে পার মানে ২৪০ওয়াট পাওয়া যায়। দুই রেইল মিলিয়ে ৫৪০ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই হওয়ার হিসাব থাকলেও সর্বোচ্চ ৫০৪ ওয়াট সাপ্লাই হতে পারে।  এখন প্রথম রেইলে যদি ৩০০ ওয়াট ইউজ হয় অন্য রেইলে (৫০৪-৩০০) = ২০৪ ওয়াট পাওয়া যাবে মানে 21A এর বদলে 17A কারেন্ট ফ্লো করবে তখন।

Continuous power vs. peak power

এইটা এক এক কোম্পানীর এক এক রকম মার্কেটিং পলিসি, কিছু কোম্পানীর পিএসইউ পাওয়ার রেটিং  Peak power এ দেয়া থাকে, সহজ ভাবে বলতে গেলে  Peak power হচ্ছে একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট সর্বোচ্চ কত ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই দিতে পারে,  এই Peak power কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থায়ী হয়।  আর Continuous Power হচ্ছে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বেশিরভাগ সময় কত ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই দিচ্ছে। যেমন একটি পাওয়ার সাপ্লাই বেশিরভাগ সময় ৬৫০ ওয়াট বা তার কাছাকাছি সাপ্লাই দেয়। ওই পাওয়ার সাপ্লাইটি মাঝে মাঝে সর্বোচ্চ ৭০০ ওয়াট সাপ্লাই দিতে পারে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য।  তাহলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই টির পাওয়ার রেটিং continuous power হিসাবে হবে ৬৫০ ওয়াট, আর peak power হিসাবে হবে ৭০০ ওয়াট। পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কোম্পানি গুলা এই দুই  ভাবে তাদের পাওয়ার রেটিং দিয়ে থাকে।
ভালো কোম্পানী গুলা continuous power হিসাবে পাওয়ার রেটিং দিয়ে থাকে। কিছু নরমাল কোম্পানি  peak power কে  continuous power হিসাবে রেটিং দিয়ে থাকে মানে ৬৫০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই কে ৭০০ ওয়াট বলে বিক্রি করে। এই দুইটি টার্ম আসলে দুইটি আলাদা স্ট্যান্ডার্ড এজন্যই ভালো ব্র্যান্ডেড কোম্পানির পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনা উচিত।


PSU Efficiency

একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কি পরিমান পাওয়ার AC গ্রিড/ওয়াল সকেট থেকে টানে আর তার কতটুকু পরিমান  DC তে কনভার্ট করে তা বিভিন্য কম্পনেন্টকে ডিস্ট্রিবিউশন করতে পারে সেটা সেই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের  Efficiency দিয়ে বুঝা যায়। সহজ কথায় বলতে গেলে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট টি যে পরিমান পাওয়ার পিসি কম্পোনেন্ট কে সাপ্লাই দিচ্ছে এবং যে পরিমান পাওয়ার ওয়াল সকেট থেকে কনসিউম করছে তার অনুপাত কেই PSU Efficiency বলে।
Efficiency = (DC power / AC power)X100
ধরা যাক একটা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট পিসির কম্পোনেন্ট গুলাকে ৩৫০ ওয়াট পাওয়ার সাপ্লাই দিচ্ছে এবং সেটি ওয়াল সকেট থেকে ৫০০ ওয়াট পাওয়ার সংগ্রহ করছে তাহলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের  Efficiency হবে
(350/500)X100= 70%।
এখন কথা হচ্ছে ওয়াল সকেট থেকে নিলো ৫০০ওয়াট সাপ্লাই দিলো ৩৫০ওয়াট বাকি ১৫০ওয়াট কি হল?? পাওয়ার প্রসেসিং সময় এই ১৫০ ওয়াট পাওয়ার তাপ ও শব্দ শক্তিতে পরিনত হয়। এখন যে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যত কম পাওয়ার লস করে পিসির কম্পোনেন্ট  পাওয়ার সাপ্লাই করতে তার Efficiency তত ভালো।
আমাদের অনেকের মাঝে এই টার্ম টি নিয়ে একটু ভুল ধারনা আছে, যেমন ৫০০ওয়াটের কোন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের Efficiency 7০% বলতে আমরা অনেকে বুঝি ওই পাওয়ার সাপ্লাই টি (5০০X0.70)= 350Watt বা 80% Efficiency হলে 400Watt  পরিমান পাওয়ার পিসির কম্পোনেন্ট গুলোকে সাপ্লাই দিবে, আসলে এই ধারনাটি পুরো ভুল। ধরা যাক দুইটি পাওয়ার সাপ্লাই, দুটিই ৫০০ ওয়াটের।
প্রথমটির Efficiency ৭০%
দ্বিতীয়টির Efficiency ৮০%,
প্রথম কথা ফুল লোডে দুটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ই 500Watt পরিমান পাওয়ার পিসির কম্পোনেন্ট গুলোকে সাপ্লাই দিবে,  কিন্তু ফুল লোডে প্রথম পাওয়ার সাপ্লাইটি ওয়াল সকেট থেকে পাওয়ার কনসিউম করবে (100/70)X500= 714Watt পরিমান পাওয়ার, যদি পিসি কম্পোনেন্ট গুলোর চাহিদা ৩০০ ওয়াট হয় তাহলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট টি ওয়াল সকেট থেকে  নিবে (100/70)X300)= 430Watt
এবং দ্বিতীয় পাওয়ার সাপ্লাইটি ফুল লোডে ওয়াল সকেট থেকে পাওয়ার কনসিউম করবে (100/80)X500= 625Watt পরিমান পাওয়ার,  যদি পিসি কম্পোনেন্ট গুলোর চাহিদা ৩০০ ওয়াট হয় তাহলে ওই পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট টি ওয়াল সকেট থেকে  নিবে (100/80)X300)= 375Watt
 তার মানে দাঁড়াচ্ছে বেশি Efficiency এর পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ইউজ করলে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল কম আসবে। 😀 😀
পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের লোডের উপর  Efficiency এর একটি সম্পর্ক আছে, প্রাথমিক অবস্থায় লোড বাড়ার সাথে সাথে Efficiency বাড়তে থাকে ৫০-৬০% লোডে সর্বোচ্চ পরিমান Efficiency পাওয়া যায়, এরপর আবার Efficiency কমতে থাকে।

Power Factor Correction (PFC)

যেসব ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতিতে inductive or capacitive কম্পোনেন্ট থাকে, সেগুলো দুই ধরনের পাওয়ার ইউজ করে,
১. Active Power
২. Reactive Power.
এই  Active Power  আর Reactive Power এর ভেক্টর যোগফল কে বলা হয় apparent power

Active Power কি?
একটি সার্কিটে সরবরাহকৃত পাওয়ারের যে অংশটুকু আপনার কাজ করে দিচ্ছে সেটাই হল ঐ সার্কিটের Active Power. মনে করুণ, একটি সার্কিটে একটা বাল্ব আছে, আপনি ঐ সার্কিটে Power Supply দিলেন বাল্ব থেকে আলো পাওয়ার জন্য। আপনার সরবরাহকৃত পাওয়ারের যে অংশটুকু রূপান্তরিত হয়ে আলো দিচ্ছে তা হল অ্যাক্টিভ পাওয়ার।
এক কথায় বলা যায়, অ্যাক্টিভ পাওয়ার হল কাজে রূপান্তরিত ক্ষমতা বা, ব্যয়িত ক্ষমতা।
The actual amount of power being used, or dissipated, in a circuit is called true power, and it is measured in watts (symbolized by the capital letter P, as always).

Reactive Power কি?
সার্কিটে যদি inductive or capacitive কম্পোনেন্ট থাকে তবে এরা কিছু পরিমাণ পাওয়ার সঞ্চয় করে রাখে। কারণ আমরা জানি capacitor এবং inductor চার্জ সঞ্চয় করে রাখতে পারে। লক্ষণীয় ব্যাপার হল এ শক্তি কিন্তু খরচ হচ্ছে না (মানে রূপান্তরিত হচ্ছে না)। capacitor কিংবা inductor যখন discharge হবে তখন তা ফেরত পওয়া যাবে। এ কারণে এ পাওয়ারকে বলা হয় reactive power বা, পুনরায় ফেরতযোগ্য পাওয়ার। reactive power অনবরত source থেকে load এবং load থেকে source এ ঘুরপাক খেতে থাকে।
The powers that continuously bounce back and forth between source and load is known as reactive Power (Q).
Power merely absorbed and returned in load due to its reactive properties is referred to as reactive power।

পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor) কি?
দেখা যাচ্ছে, কোন সার্কিটে যদি inductive or capacitive কম্পোনেন্ট থাকে তবে মোট সরবরাহ করা power এর কিছু অংশ সঞ্চিত হবে এবং বাকি অংশ কাজে রুপান্তারিত হবে।
অর্থাৎ, সার্কিটে প্রদত্ত Power = কাজে রুপান্তারিত power + সার্কিটে সঞ্চিত power
বই এর ভাষায় বলতে গেলে, apparent power= real power + reactive power
কোন সার্কিটের মোট প্রদত্ত Power এর কত অংশ কাজে রূপান্তরিত হওয়ার উপযোগী বা কাজে রূপান্তরিত হচ্ছে, সেটাকেই বলা হয় power factor.
Untitled
কোন সার্কিটের power factor, 0.9, মানে হল সার্কিটে ১০০ একক power সরবরাহ করা হলে এর ৯০ একক কাজে রূপান্তরিত হওয়ার উপযোগী থাকবে এবং বাকি ১০ একক সঞ্চিত থাকবে।

টার্ম গুলা সম্পর্কে অনেকের ই ধারনা না থাকতে পারে, গোলমাল লাগছে?? সহজ করেই বুঝাই,

একটি ড্রিঙ্কসের বোতল প্রথমে খুললে  বোতল থেকে কিছু ড্রিংকস বুদবুদ করে ফেনা হয়ে বেরিয়ে যায়, এই বুদবুদ আকারে উড়ে যাওয়া ড্রিংকসটুকুর অস্তিত্ত্ব আছে, কিন্তু আমাদের কোনো কাজে আসে না। কিন্তু বাকি ড্রিংকসটুকু যেটা থাকে, সেটা আমরা পান করতে পারি। এটা আমাদের কাজে আসে। ড্রিঙ্কসের এই ফেনার মতো বুদবুদ অংশকে রিয়েকটিভ পাওয়ার, আর মুল অংশকে রিয়েল পাওয়ারের সাথে তুলনা করলে রিয়েল পাওয়ার আর রিয়েকটিভ পাওয়ার এর অনুমান পাওয়া যায়। অর্থাত যে পাওয়ারটুকু আমাদের কাজে আসে, সেই পাওয়ারটুকু রিয়েল পাওয়ার, আর যেই পাওয়ারটুকুর অস্তিত্ত্ব আছে, বাট আমাদের কোনো কাজে আসে না, সেটা রিয়েকটিভ পাওয়ার। কিন্তু ক্যালকুলেশনের সময় দুটুই হিসেবে আনতে হয়।

Apparent Power(Total Power)= Real Power+ Reactive Power

পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor) কম হলে কি হবে?


পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor) কম এর অর্থ হল আপনার সিস্টেম যে পরিমাণ পাওয়ার উৎপন্ন করে বা, গ্রহণ করে সে পরিমাণ কাজে লাগাতে পারে না, কিছু অংশ অযাথাই সঞ্চয় হয়ে থাকে।
একটি Generator এর power factor 0.৮ এর অর্থ হল এটি যে পরিমাণ পাওয়ার উৎপন্ন করে তার ৮০% ব্যবহার করা যাবে, বাকি ২০% এর অভ্যন্তরে ঘুর-পাক খাবে।
একটি IPS এর পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor) ০.৮৫, এর অর্থ হল এটি ব্যাটারি থেকে কোন মুহূর্তে যে পরিমাণ পাওয়ার নেয় তার ৮৫% আপনার লাইট, ফ্যান ইত্যাদি লোডগুলা ব্যবহার করতে পারবে, বাকি ১৫% IPS সার্কিটের মধ্যে সঞ্চিত থাকবে।
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে, পাওয়ার ফ্যাক্টর (Power Factor) কম মানে হল আপনি আপনার যন্ত্রের পুরো ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছেন না। ধরা যাক আপনি একটি বাজার থেকে ৫০০টাকা দিয়ে একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনলেন ৫০০ ওয়াটের, এই ৫০০ টাকা দামের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলোর  Power Factor ০.৬০-০.৭০ এর মাঝে থাকে, তার মানে সেটিতে ৫০০ ওয়াট লেখা থাকলে আপনি ৩০০ ওয়াট থেকে সর্বোচ্চ  ৩৫০ ওয়াট পরিমান পাওয়ার আউটপুট পাবেন বাকি ১৫০-২০০ ওয়াট  অভ্যন্তরে ঘুর-পাক খাবে উপরের প্রথম পিকচারটির মত।
পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা Power Factor ইম্প্রুভ করার জন্য power factor correction filter অথবা circuits ইউজ করে থাকে যেটাকে সংক্ষেপে (PFC) বলা হয়, পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলাতে সাধারনত  দুই ধরনের (PFC) দেখা যায়,

১. Passive PFC : এই ধরনের (PFC) পাওয়ার ফ্যাক্টর ইম্প্রুভ করার জন্য  capacitive filter ইউজ করে, অত ভালো পাওয়ার ফ্যাক্টর কারেকশন করতে পারেনা, Passive PFC ইউজ করে 0.60 (60%) থেকে সর্বোচ্চ 0.80 (80%) পরিমান power factor correction করা যায়, সস্তা নন ব্র্যান্ড পাওয়ার সাপ্লাই গুলো এই ধরনের PFC ইউজ করে থাকে।

2. Active PFC: power factor correction এর জন্য একধরনের সার্কিট ইউজ করে যেটাতে বিভিন্য ট্রাঞ্জিস্টর এবং ডায়োড থাকে, এটি অটোমেটিক ভাবে ইনপুট AC ভোল্টেজ কে কারেকশন করে নেয়।  এর সাহায্যে খুব উচ্চমানের পাওয়ার ফ্যাক্টর পাওয়া সম্ভব 0.95 (95%) এর উপরে!! ব্র্যান্ডেড দামী পাওয়ার সাপ্লাই গুলা এই ধরনের PFC দিয়ে তৈরি হয়। পাওয়ার সাপ্লাই কিনার আগে PFC অবশ্যই দেখে কিনা উচিত।


PSU Certification

80plus নামে একটি অর্গানাইজেশন PSU Certification দিয়ে থাকে, কোন নতুন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বের হলে এই অর্গানাইজেশন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলোকে বিভিন্য ভাবে কিছু টেস্ট করে থাকে, সফল ভাব টেস্ট গুলো উত্তির্ন হতে পারলে তবেই পাওয়া যায় সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেট মুলত PSU Efficiency এবং power factor correction (PFC) এর উপর দেওয়া হয়,
আমরা অনেক সময় দেখি পাওয়ার সাপ্লাই এর গায়ে লেখা থাকে 80+ অথবা 80+ Bronze অথবা 80+ Gold।  টোটাল ৬ ধরনের সার্টিফিকেট আছে,  উপরের সিম্বল গুলোর যেকোন একটি থাকলে বোঝা যাবে পাওয়ার সাপ্লাইটি 80plus অর্গানাইজেশন দ্বারা certified. নিচে একটি চার্ট দিচ্ছি যেটা দেখলে Certification সম্পর্কে হালকা আইডিয়া পাবেন। একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের কত পার্সেন্ট লোডে কত Efficiency এবং কত PFC থাকে সেটার উপর ভিত্তি করেই ক্যাটাগরি করা হয়, যেমন 80+ Gold  ক্যাটাগরির PSU হতে হলে ২০% লোডে ৯০% Efficiency থাকতে হবে, ৫০% লোডে ৯২% Efficiency থাকতে হবে আর ১০০% লোডে ৮৯% Efficiency এবং সব মিলিয়ে 0.90 (PFC) থাকলে তবেই ওই পাওয়ার সাপ্লাই 80+ Gold Certified হবে।

বর্তমানে সবচেয়ে ভালো রেটেড পাওয়ার সাপ্লাই হল 80+Titanium ইউনিট গুলা, ৯৪-৯৬% Efficiency আর 0.95 এর উপর PFC হলেই পাওয়া যায় Titanium certificate, দেখেই বোঝা যায় কত ভালো আর কোয়ালিটি সম্পন্ন হতে পারে  পাওয়ার সাপ্লাই গুলা, এরকম একটি উদাহরন হচ্ছে, corsair Ax1500i

অনেক সময় দেখা যায় কিছু কোম্পানি বা কোন ব্র্যান্ডের একটি সিরিজ দাবী করে তাদের এই পাওয়ার সাপ্লাইটি বা এই সিরিজের পাওয়ার সাপ্লাই গুলা 80+ বা আশি শতাংশের উপর Efficiency.

উদাহরন হিসাবে বলা যেতে পারে Thermaltake smart SE সিরিজের কথা, তারা নিজেরা দাবী করে তাদের এই সিরিজের পাওয়ার সাপ্লাই গুলার 87% পর্যন্ত Efficiency হয়ে থাকে, কিন্তু এটি 80plus অর্গানাইজেশন দ্বারা স্বীকৃত নয়, এই সিরিজটিকে খারাপ বলছিনা কিন্তু আমার কাছে রিলায়েবল লাগেনা। 80plus দ্বারা স্বীকৃত সব পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা সাধারনত ভালো কোয়ালিটির হয়, পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনার সময় এটি দেখে কিনা উচিত।

1000W  VS 500W PSU

আমাদের অনেকের মাঝে একটা ধারনা আছে যে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট যত ওয়াটের সেটি ঠিক তত ওয়াট বা Efficiency হিসাবে যত ওয়াট আসে সেই পরিমান পাওয়ার ওয়াল সকেট থেকে কালেক্ট করবে। যেমন, ৭৫০ ওয়াট (80+ Gold) একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ওয়াল সকেট থেকে সব সময়  ৮৮২ ওয়াট পাওয়ার কনসিউম করবে এই ধারনা ভুল।  আসলে একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কত ওয়াট পাওয়ার কনসিউম করবে সেটা সম্পুর্ন সিস্টেম লোডের উপর নির্ভর করে মানে আপনার পিসির কম্পোনেন্ট গুলোর ঠিক কত পাওয়ার দরকার পরছে। যদি সিস্টেম লোড ২৫০ ওয়াট হয় তাহলে ওয়াল সকেট থেকে ওই পাওয়ার সাপ্লাই কনসিউম করবে  ২৯৪ ওয়াটের কাছাকাছি, যদি সিস্টেম লোড ৪০০ ওয়াট হয় তাহলে  ওয়াল সকেট থেকে ওই পাওয়ার সাপ্লাই কনসিউম করবে ৪৭০ ওয়াটের কাছাকাছি পাওয়ার কালেক্ট করবে। ৮৮২ ওয়াট পাওয়ার তখন ই কনসিউম করবে যখন সিস্টেম সিস্টেম লোড ৭৫০ ওয়াট হবে মানে, পিসির সবগুলা কম্পোনেন্ট গুলোর চাহিদা সব মিলিয়ে ৭৫০ ওয়াট হবে। তার মানে সিস্টেম লোড কম হলে যদি বেশী ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই লাগানো হলেও তেমন সমস্যা নেই, মানে হচ্ছে আপনার বাড়ির পিসির বিদ্যুৎ বিল আপনার সিস্টেম লোডের উপর নির্ভর করে পাওয়ার সাপ্লাই এর ওয়াটেজের উপর না।
এবার মুল টপিকে আসি দুইটা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট একটা ৫০০ ওয়াট এর অন্যটা ১০০০ ওয়াট এর এবং দুইটাই 80+ bronze certified, এখন ধরুন আপনার সিস্টেম লোড হচ্ছে ৩০০ ওয়াট, কোন পাওয়ার সাপ্লাইটা ইউজ করলে বেটার?
আমরা আগেই জেনেছি কোন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের ক্ষেত্রে ৫০-৬০% লোডে সর্বোচ্চ পরিমান  Efficiency পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে সিস্টেম লোড ৩০০ ওয়াট হচ্ছে ৫০০ ওয়াটের ৬০%। সুতরাং এই লোডে ৮৭-৮৮% Efficiency পাওয়া যাবে এবং ৩৪০ ওয়াটের কাছাকাছি পাওয়ার কনসিউম করবে ওয়াল সকেট থেকে।। আবার সিস্টেম লোড ৩০০ ওয়াট হচ্ছে ১০০০ ওয়াটের ৩০%, সেক্ষেত্রে ১০০০ ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই থেকে সামান্য কম পরিমান  Efficiency পাওয়া যাবে প্রায় ৮৫-৮৬% পর্যন্ত। সেই হিসাবে ওয়াল সকেট থেকে কনসিউম করবে ৩৫২ ওয়াটের কাছাকাছি, ডিফারেন্স কিন্তু খুব বেশী না মাত্র ১০-১২ ওয়াটের। সুতরাং বেশী ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট নিয়ে চিন্তা করার কিছু নাই।
...

Voltage Stability, Noise and Ripple

আমরা বিভিন্ন ভোল্টেজ রেইল সম্পর্কে আগেই জেনেছি, এটাও জেনেছি পিসির বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ভিন্ন ভিন ভোল্টেজের রেইলে অপারেট করে, রেইল গুলোর ভোল্টেজ স্ট্যাবল থাকা খুব জরুরী, ধরুন একটি পিসি কম্পোনেন্ট ১২ ভোল্টে অপারেট করছে, এখন কিছু সময়ের জন্য ১২ ভোল্ট যদি ১৩ ভোল্ট অথবা ১১ ভোল্ট হয়ে যায় তাহলে কম্পোনেন্ট গুলোর কি অবস্থা হবে ভাবতে পারেন?? মজার ব্যাপার ডিসি ভোল্টেজ হলেও রেইল গুলোতে ভোল্টেজ কিন্তু Constant থাকেনা, রেইলের উপর লোড বাড়লে ভোল্টেজ ড্রপ করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়, কিন্তু তাই বলে ১২ ভোল্ট ১৩ ভোল্ট হয়ে যাবে বা ১১ ভোল্টে ড্রপ অথবা ৫ ভোল্ট, ৪ ভোল্ট হয়ে যাবে করবে সেটা হতে পারে না।

পজেটিভ রেইল গুলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ±5% এবং নেগেটিভ রেইল গুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ±10% টলারেন্স সহ্য করা যায়।  মোট কথা রেইলে ভোল্টেজ উঠানামা করবেই, যে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট এ Voltage Fluctuation যত কম মানে ভোল্টেজ যত বেশি স্ট্যাবল সেটি তত ভালো।

এবার আসি নয়েজ এবং রিপল এর ক্ষেত্রে, আগেই জেনেছি রেইলে ভোল্টেজ Constant থাকে না যেমন ১২ ভোল্ট রেইলে সব সময় ১২ ভোল্ট পাওয়া যাবেনা, উঠানামা করতে থাকবে উপরের ছবিটি দেখলে ধারনা পাবেন, রেইলে যদি ১২ ভোল্ট  Constant থাকতো তাহলে একটি সরল রেখা পাওয়া যেতো,

যাই হোক oscilloscope দিয়ে দেখলে ভোল্টেজের এইরকম oscillation দেখা যায় অনেকটা AC ভোল্টেজের মত, একে (Ripple) রিপল বলা হয়, আর এই  oscillation এর উপরের দিকে কিছু Spike (স্পাইক) দেখা যায় একে (Noise) নয়েজ বলে।

Low Ripple and Noise

High Ripple and Noise
+12V রেইলে (Ripple) আর (Noise) মিলিয়ে 120 mV এবং +5V, +3.3V রেইলে 50 mV এর বেশি হওয়া উচিত নয়। এর বেশি হলে পিসি কম্পোনেন্ট ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  নরমাল পাওয়ার সাপ্লাই গুলাতে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলিটি খুব খারাপ থাকে+নয়েজ এবং রিপলের পরিমানও অনেক বেশী থাকে।
 ...

PSU Protection


অনেক সময় দেখা যায় বাড়ির আশেপাশে বাজ পরলে বা হটাৎ ভোল্টেজ একটু উঠানামা করলে পাওয়ার সাপ্লা ইউনিট জ্বলে যায়। কমন একটি সমস্যা আবার অনেক সময় ভাগ্য খারাপ থাকলে পাওয়ার সাপ্লাই এর সাথে মাদারবোর্ড বা গ্রাফিক্স কার্ড ও জ্বলে যেতে পারে। নরমাল পাওয়ার সাপ্লাই গুলা ইউজ করলে সমস্যা গুলো হয়ে থাকে, ব্র্যান্ডের পাওয়ার সাপ্লাই গুলোতে বিভিন্য প্রোটেকশন সার্কিট থাকে যা পিসির কম্পোনেন্ট গুলোকে সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। তাই পাওয়ার সাপ্লাই কিনার সময় অবশ্যই এই ফিচার গুলো দেখে কিনা উচিত।
১. Short Circuit Protection (SCP) :  আউটপুটে কোন শর্ট সার্কিট ডিটেক্ট হলে সাথে সাথে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট অফ হয়ে যাবে, শর্ট সার্কিট থাকলে  পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ই অন হবে না।
২. Under Voltage Protection (UVP) : কোন আউটপুট রেইলের ভোল্টেজ যদি টলারেন্স লিমিটের চেয়ে কমে যায় (যেমন +৫ ভোল্ট রেইলে ভোল্টেজ +৪.৫ ভোল্ট পাওয়া গেলো) তখন এই সার্কিট পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে অফ করে ফেলবে।
৩. Over Voltage Protection (OVP) :  কোন আউটপুট রেইলের ভোল্টেজ যদি টলারেন্স লিমিটের চেয়ে বেড়ে যায় (যেমন +১২ ভোল্ট রেইলে ভোল্টেজ +১২.৮ ভোল্ট পাওয়া গেলো)  তখন এই সার্কিট পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে অফ করে ফেলবে।
৪. Over Current Protection (OCP) : কোন আউটপুট রেইলে লিমিটের চেয়ে অতিরিক্ত কারেন্ট ফ্লো করলে  পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট অফ হয়ে যাবে, যেমন কোন পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট +১২ ভোল্ট রেইলে সর্বোচ্চ 25A কারেন্ট দিতে পারে, এখন এমন একটি কম্পোনেন্ট ওই রেইলে লাগানো হল যেটি রান করতে 30A পরিমান কারেন্ট লাগে সেক্ষেত্রে এই সার্কিট পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে অফ করে ফেলবে।
৫. Over Power Protection (OPP) or Over Load Protection (OLP) : আপনার পাওয়ার সাপ্লাই এর ক্ষমতা ৫০০ ওয়াট কিন্তু  কম্পোনেন্ট গুলার চাহিদা ৫৫০ ওয়াট, পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট চালু হবে না। এছাড়া বজ্রপাতের সময় মাঝে মাঝে তারের মধ্য দিয়ে কারেন্ট স্পাইক চলে আসলে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
৬. Over Temperature Protection (OTP): একটি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের ভিতরের তাপমাত্রা কোন কারনে যদি একটি ডেঞ্জার লিমিটের উপর চলে যায় তখন এই সার্কিট  পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটকে অফ করে ফেলবে।
.
...

একনজরে ৫০০/৬০০ টাকা দামের নরমাল পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলোর অসুবিধা

  • Efficiency খুব কম থাকে (৭০%) এবং PFC ও খুব কম থাকে (০.৭),  তার মানে ৫০০ ওয়াটের নরমাল পাওয়ার সাপ্লাই গুলা আপনাকে (500X0.7)= 350W পাওয়ার সরবরাহ করছে এবং ওয়াল সকেট থেকে কনসিউম করছে (100/70)X500= 714W পাওয়ার, মানে খরচ হচ্ছে ৭১৪ ওয়াট কিন্তু আউটপুট ৩৫০ ওয়াটের!
  • টেম্পারেচার রেটিং অনেক খারাপ থাকায় বেশী টেম্পারেচার উঠলেই পাওয়ার রেটিং ফল করবে, মানে ৩৫০ ওয়াট এর বদলে ৩০০ ওয়াট পাওয়ার পাবেন পিসির কম্পোনেন্ট গুলার জন্য।
  • ভোল্টেজ রেগুলেশন অনেক খারাপ থাকে, নয়েজ এবং রিপলের পরিমান ও অনেক বেশী থাকে যা আপনার পিসির কম্পোনেন্ট গুলো যে কোন সময় নস্ট করার জন্য যথেষ্ট।
  •  পাওয়ার সাপ্লাই এর কোন প্রোটেকশন থাকেনা, ফলে ভোল্টেজ সামান্য আপ ডাউইন করলেই পাওয়ার সাপ্লাই জ্বলে যায়, কোন কারনে শর্ট সার্কিট হলে  পাওয়ার সাপ্লাই জ্বলে যায়, ওভারলোড প্রোটেকশন না থাকার কারনে সিস্টেম ওভারলোড হলে পিসি কম্পোনেন্ট গুলোর ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে।
  • ভিতরের ক্যাপাসিটর, ইন্ডাক্টর সহ বিভিন্য কম্পোনেন্ট অনেক নিন্ম মানের হয়ে থাকে।
 ...

ব্র্যান্ডেড পাওয়ার সাপ্লাই সম্পর্কে কিছু কথা

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের অনেক ব্র্যান্ড আছে কোন ব্র্যান্ডের আবার বিভিন্য সিরিজ থাকে যেমন Thermaltake একটি ব্র্যান্ড এবং এই ব্র্যান্ডের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের অনেক সিরিজ আছে যেমন lightpower সিরিজ, Smart সিরিজ, Smart SE সিরিজ, TR2 সিরিজ, Toughpower সিরিজ ইত্যাদি।

আবার Gigabyte এর Odin Pro সিরিজ, Superb সিরিজ, Sumo সিরিজ,  ODIN GT সিরিজ, GreenMax Plus সিরিজ, PLUS সিরিজ, PoweRock AX সিরিজ, Hercules সিরিজ ইত্যাদি।
Corsair এর RM, সিরিজ, CX সিরিজ, CS সিরিজ, VS সিরিজ, AX সিরিজ, HX সিরিজ ইত্যাদি।
Cooler master ব্র্যান্ডের Elite Power সিরিজ, GX সিরিজ, V সিরিজ, Thunder সিরিজ, B সিরিজ, Silent Pro Platinum সিরিজ  ইত্যাদি।
সিরিজ ব্র্যান্ডের সব গুলা সিরিজ এর পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট ভালো হবে এমন না, যেমন  thermaltake এর lightpower সিরিজ টা ফালতু, আবার Toughpower সিরিজটা অত্যান্ত ভালো। আবার গিগাবিটের Superb সিরিজ, Hercules সিরিজ তেমন ভালো নয় কিন্তু Sumo সিরিজ, Odin Pro সিরিজ, GreenMax Plus সিরিজ, PLUS সিরিজ গুলা খুবই ভালো। ব্র্যান্ডের একটি সিরিজ খারাপ মানে ঐ ব্র্যান্ডের অন্যান্য সিরিজ খারাপ হবে এমনটা না।
যেমন  গিগাবাইটের Superb সিরিজ ও Hercules সিরিজ তেমন ভালো নয় সেই জন্য অনেকে গিগাবাইট কে পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের জন্য খারাপ ব্র্যান্ড মনে করে, এই ধারনা ভুল। গিগাবাইট Odin Pro সিরিজ, PLUS সিরিজ,, PoweRock AX সিরিজ ফাটাফাটি, আর প্লাটিনাম গ্রেডের Sumo সিরিজের তো কথাই নেই, রিসেন্টলি বাংলাদেশে PLUS সিরিজের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা পাওয়া যাচ্ছে, অত্যান্ত ভালো কোয়ালিটির এবং দামও তুলনামুলক অনেক কম।
Tharmaltake এর Light Power সিরিজ খারাপ হলেও  প্লাটিনাম গ্রেডের Toughpower Grand Platinum সিরিজটিও অস্থির, তাছাড়া Corsair এর পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট গুলা অনেক ভালো এবং এর অনেক গুলো সিরিজ বাংলাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। আমি মনে করি পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিটের জন্য অন্তত ৩০০০-৩৫০০ টাকা বাজেট রাখা উচিত কারন এর নিচে ভালো পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট পাওয়া খুব কঠিন, আপনাদের সুবিধার একটি রেঞ্জ দিয়ে দিচ্ছি।
 ...

Power Calculator

পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট কিনতে যাবার আগে আপনার পিসির কম্পোনেন্ট গুলার জন্য কত পাওয়ার দরকার সেটা হিসাব করে যাওয়া উচিত, পিসির সবচেয়ে পাওয়ার হাংরি কম্পোনেন্ট দুটি হচ্ছে সিপিইউ এবং ভিডিও কার্ড
একটি রেগুলার মাদারবোর্ডের জন্য ২৫-৪০ ওয়াট পাওয়ার দরকার হয়। একটি হাই এন্ড গেমিং মাদারবোর্ড  জন্য ৪৫ থেকে ১০০ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার দরকার হয়।
একটি DDR2 র‍্যামের জন্য সর্বোচ্চ ৪.৫ ওয়াট পাওয়ার লাগে, এবং প্রতিটি DDR3 র‍্যামের জন্য সর্বোচ্চ ৩ ওয়াট পাওয়ার দরকার হয়।
SSD vs HDD
প্রতিটি SSD এর জন্য সর্বোচ্চ ৩ ওয়াট পাওয়ার এবং প্রতিটি HDD এর জন্য সর্বোচ্চ ১০ ওয়াট পাওয়ার দরকার।
প্রতিটি সাটা Optical DVD Drive ২৭ ওয়াট পাওয়ার কনসিউম করে, blue ray Drive গুলা কনসিউম করে ৩০ ওয়াট পর্যন্ত।
প্রতিটি কেস ফ্যানের দরকার হয় সর্বোচ্চ ৬ ওয়াট পর্যন্ত।
 .
এখন ভিডিও কার্ড এবং প্রসেসর এর Power Consumption ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে আপনার কত ওয়াটের পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট লাগবে সেটা নিজেই বের করতে পারবেন। আর পাওয়ার সাপ্লাই কিনার সময় +12V রেইলে কত ওয়াট পাওয়ার আছে সেটা ভালো ভাবে দেখে নিবেন কারন বর্তমানে পিসির বেশিরভাগ কম্পোনেন্ট +12V রেইল থেকে পাওয়ার কালেক্ট করে, বিশেষ করে ভিডিও কার্ড এবং প্রসেসর, এই দুইটা কম্পোনেন্ট বেশী পাওয়ার টানে +12V রেইল থেকে। ভিডিও কার্ড ইউজ না করলে একটি ডিসেন্ট ৪০০-৪৫০ ওয়াট ইউনিট আপনার সিস্টেমের জন্য যথেষ্ট।
 .
যাদের বাজেট খুব ই কম মানে ৫০০ টাকার নন ব্র্যান্ড ছেড়ে ব্র্যান্ডে উঠতে চাচ্ছেন তাদের জন্য GIGABYTE Hercules X 380w, ১৯০০টাকা নিবে,  অথবা GIGABYTE Hercules X 430w ২৩০০ টাকা নিবে। লো ইন্ড কম্পিউটারের জন্য, GIGABYTE Hercules X সিরিজ অত আহমরি নয় কিন্তু নন ব্র্যান্ড PSU থেকে অনেক ভালো। এর চেয়ে ভালো লেভেল এর চাইলে Corsair  VS450W Gaming ৩২০০টাকায় পাবেন, বাজেট একটু বাড়ালে ৩৮০০ টাকায় পাবেন Thermaltake TR2 450W 80+ Bronze, এটি দিয়ে হাই ইন্ড সিপিইউ ও মিড রেঞ্জ সিঙ্গেল জিপিইউ রান করাতে পারবেন। এছাড়া গিগাবাইটের প্লাস সিরিজের Gigabyte Pulse 650W (80+ Bronze) পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে ৫৯০০টাকায়, এটি দিয়ে সব হাই ইন্ড সিপিইউ এবং হাই এন্ড সিঙ্গেল জিপিইউ রান করানো যাবে।
.
গ্রাফিক্স কার্ডের উপর আমার লেখা টিউন টি দেখতে পারেন এখানে
.
কিছু ইনফরমেশন ও ছবি গুলো ইন্টারনেট থেকে কালেক্ট করা হয়েছে।
কৃতজ্ঞতাঃ  আসিফ আন্দালিব হক (তিয়ান)

Popular Posts

Recent Posts